Saturday, July 25, 2015

পুলিশ রাস্ট্রীয় মর্যাদার বাইরে কেন? প্রসঙ্গ : কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশ হত্যা

প্রজাতন্ত্রেও জানমাল রক্ষা ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে ক্ষেত্র বিশেষে অণ্যান্য বাহিনীকে ব্যবহার করা হলেও এখনো বাংলাদেশ পুলিশই একমাত্র প্রধান ভরসা আমাদের। দুষ্ট্রের দমন আর শিষ্টের পালন মূলমন্ত্র নিয়ে কাজ করতে গিয়ে এদেশের পুলিশকেই সমালোচিত হতে হয় বেশি। গুটি কয়েক রাক্ষসী মাছের জন্যে পুকুরে বিষ সমস্ত মাছকে বিষাক্ত করে তোলা আর গুটি কয়েক পুলিশ সদস্যদের কুকর্মের দায়ভার সমস্ত বাহিনীর উপর চাপিয়ে দিতে আমরাও বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।
তাই পুলিশ বাহিনীর মাঝে যে সবাই পচে যায় নি তাই প্রমান করলো কক্সবাজারের পুলিশ কনস্টেবল পারভেজ। রবীন্দ্রনাথের সেই বিলাসী গল্পের কথাই যেন মনে করিয়ে দিল তিনি।“ মৃত্যুঞ্জয় মরিয়া প্রমান করিল সে মরে নাই” আর পুলিশ কনস্টেবল পারভেজ মরিয় প্রমান করিল পুলিশ বাহিনী এখনো মরে নাই। মাত্র বাইশ বছর বয়সে, পুলিশের কন্সটেবলের চাকুরি করত পারভেজ। প্রতিদিন ষোল থেকে আঠারো ঘন্টা ডিউটি, ছুটিবিহীন। মাথার উপরে সিনিয়র অফিসারের হুকুম, আর সাধারন জনগনের গালিগালাজ। কেননা গালি দেবার বেলায় আমরা বাঙালিদের ঝুড়ি মেলা ভার। নাগালের বাইরে থেকে সুযোগ পেলে মনের মতো করে  সবার উপরই হেডাম দেখাতে ভয় করি না-আর পুলিশ তো কোন বিষয়ই না!
দুষ্ট বদমায়েশ নেই হেন কোন জায়গা এদেশে নেই, তবে বিচিত্র কারণে সবাই মনে করে- একমাত্র পুলিশ ছাড়া এদেশের বাকি সবাই স্বয়ং ভগবান প্রেরিত দেবদূতবিশেষ! নাম পারভেজ হোসেন( ২২) , পুলিশ কন্সটেবল, টুরিস্ট পুলিশ ইউনিট, কক্সবাজার। জনগনের মাল রক্ষা করতে গিয়ে দিতে হল তাকে তাজা প্রান । এরকম শত শত কন্সটেবল পারভেজের রক্তে এই ভাঙাচোরা দেশের মানুষ রাতের বেলা শান্তিতে ঘুমায়, তারপর সকাল বেলা নিজের কুকাম ঢাকতে ট্রাফিক সার্জেন্টকে ঘুষ দেয়। দুপুরে ভাত খাবার আগে মাদারচোত পুলিশ বলে গালি দিতেও ভোলেনা আবার! এই হল আমরা বাঙ্গালী। সবুজ টি শার্টের উপর ছুরির আঘাতে বের হওয়া রক্ত যেন ঠিক বাংলাদেশের পতাকা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন হবেনা ওর, কিন্তু বাংলা মায়ের পতাকা ওর বুকে জড়ানো ঠেকল কই! তাহলে পুলিশ কি রাষ্ট্রের মর্যাদার বাইরেই থেকে যাবে? পুলিশ মরলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পাবেন না এই ব্যর্থতা পুলিশের রাগল বোয়াল মার্ক কর্মকর্তাদেরই। আপনারা সাধারন ফোর্সদের দিয়ে মাছ ধরে এনে তার কৃতিত্ব নিতে হুমড়ী খেয়ে পড়েন আর মাছ খাওয়া শেষে তার কাঁটাটুকু ফেলে আসার জন্যে এক মুহুর্ত দেরী করেন না।
এদেশের একজন সৈনিক যদি মরনের পর রাস্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন হয় সরকার কর্র্তৃক বিশেষ স্বীকৃতি পায় তাহলে জনগনের সেবা করতে গিয়ে প্রান চলে গেলেও কেন একজন পুলিশের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন হবে না বা হয় না এমন প্রশ্নের উত্তর কি স্বয়ং পুলিশ বাহিনীর রাঘব বোয়ালরা তুলতে পারেন না? করবেন ই বা কেন আপনারা তো আছেন বেশ! বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যেমন সম্মান পায় তেমনি পুলিশের মাঝেও তেমন শৃঙ্খলাবোধ তৈরী করে এবং তাদের মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান প্রদর্শন কেবল উচিতই নয় এ আমাদের বিশাল দায়বদ্ধতা। আদৌ কি সেই দায়বদ্ধতার ভার কেউ নিতে চাইবেন?

No comments:

Post a Comment