Monday, July 20, 2015
ভ্যানগাড়ি চালানোয় শিশু রাজনকে হত্যা
শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার অন্যতম আসামি চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়না।
সোমবার (২০ জুলাই) সিলেট মহানগর মুখ্য হাকিম তৃতীয় আমলি আদালতে হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তি দেন চৌকিদার ময়না। আদালতের বিচারক আনোয়ারুল হক জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন পুলিশকে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) সুরঞ্জিত তালুকদার বাংলানিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বিকেল সোয়া ৪টায় চৌকিদার ময়নাকে আদালতে আনা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
ময়নার জবানবন্দির বরাত দিয়ে আদালতের একটি সূত্র জানান, গ্রেফতার আলী হায়দারের একটি ভ্যানগাড়ি ঘটনার দিন টুকেরবাজার তেমুখি সংলগ্ন খাঁন ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের সামনে রাখা ছিলো। ঘটনার দিন সকাল ছয়টার দিকে রাজনসহ কয়েকজন শিশু খেলার ছলে ভ্যানগাড়িতে ওঠে। অপর এক ব্যক্তি ময়নাকে ডেকে বলে- তার ভ্যানগাড়ি নিয়ে যাচ্ছে।
ময়না শিশুদের তাড়া করলে অন্য শিশুরা দূরে সরে যায়। এসময় রাজনকে জাপটে ধরে চোর সন্দেহে বেঁধে রেখে ‘চোর’ ধরেছে বলে আলী হায়দারের বাড়িতে খবর দেন।
এরপর কামরুল, আলী হায়দার, মুহিত আলম, পাভেলসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে এসে শিশু রাজনকে নির্মম নির্যাতন করেন। নির্যাতনের এক পর্যায়ে রাজনের মৃত্যু হয়।
তবে নিজের দায় এড়ানোর চেষ্টায় ময়না জানান, তার মারধরে রাজনের মৃত্যু হয়নি। তবে মারধরের সময় কামরুলসহ অন্যদের সহযোগিতা করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) সুরঞ্জিত তালুকদার আরও বলেন, রাজনসহ শিশুরা ভ্যানগাড়িটি চালানোর চেষ্টা করছিলো। তবে চুরির উদ্দেশ্যে নয়। ময়নার বক্তব্যেই বোঝা গেছে তারা খেলা করার জন্য গাড়িটি চালাচ্ছিল।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ময়না গ্রেফতার আসামিসহ জড়িত আরও কয়েকজনের নাম বলেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করা যাচ্ছে না বলেও উল্লেখ করেন এই কর্মকর্তা।
গত ১৪ জুলাই রাতে রাজন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ময়না চৌকিদারকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে দেয়। ১৫ জুলাই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ডের সময় শেষ হওয়ার আগেই ময়না আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় সোমবার (২০ জুলাই) তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
শিশু রাজন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত এক নারীসহ ১০জন গ্রেফতার রয়েছেন। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা কামরুল সৌদি আরবে আটক রয়েছেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে- এমনটি জানিয়েছে পুলিশ।
৮ জুলাই সকালে চোর সন্দেহে পৈশাচিক নির্যাতন করে ১৩ বছরের শিশু সামিউল আলম রাজনকে হত্যা করা হয়। নিহত রাজন কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী ভাইয়ারপাড় গ্রামের মাইক্রোবাস চালক শেখ আজিজুর রহমানের ছেলে।
শিশু রাজনকে পেটানোর ভিডিও ফুটেজ ধারণ করে নির্যাতনকারীরাই ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। ২৮ মিনিটের ওই ভিডিও দেশ-বিদেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ওঠে প্রতিবাদের ঝড়।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment